শিক্ষাক্ষেত্রে কল্যানী

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে ১৯৫১ সালে কল্যাণী শহরে  “বিদ্যামন্দির” নামে প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। যা পান্নালাল ইনস্টিটিউশনের  পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। পরে ১৯৫৬ সালে শহরের প্রথম বিদ্যালয় স্থাপিত হয় “পান্নালাল ইনস্টিটিউশন” নামে।

 ১৯৬০ সালে উচ্চ শিক্ষার কথা ভেবে কল্যাণী সি ব্লকে “কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়” স্থাপিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পঠন-পাঠন শুরু হয় হরিণঘাটা থানার মোহনপুরের বিড়লা কৃষি কলেজে। পরে  ১৯৬৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন তৈরি হয়।১৯৭৪ সালে তৈরি হয় “বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়”,“বিসিকেভি”

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সন্তানদের উচ্চ মানের শিক্ষা লাভ করা উদ্দেশ্যে ১৯৬৫ সালে তৈরি হয় “কল্যাণী ইউনিভার্সিটি এক্সপেরিমেন্টাল স্কুল“। ১৯৭০ সালে এটি হাই স্কুলে রূপান্তরিত হয়। এই বিদ্যালয়টির প্রথম কংগ্রেস রোড ও বি-২ সেক্টরের  সংযোগস্থলে  ২টি ছাউনি ঘরের সাথে ৮টি কামরা বিশিষ্ট কোয়ার্টার নিয়ে চালু হয়। ১৯৮৭ সালে এই বিদ্যালয়টি সমস্ত প্রকার আর্থিক দায়-দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করেও ১৯৯০ সালে বি-১৮ সেক্টরে নিজস্ব ভবনের স্থানান্তরিত হয়।

    ১৯৬৫ সালে পান্নালাল ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয় ভবনে মেয়েদের জন্য  “বিধানচন্দ্র  মেমোরিয়ালস গার্লস স্কুল” শুরু হয়। প্রভাতকালীন অধিবেশনে ও ছেলেদের জন্য দিবাকালিন অধিবেশন চলতে থাকে। পরে ১৯৮০ সালের বিধানচন্দ্র মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল বি-২ সেক্টরে নিজস্ব ভবন নিয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার পর সম্পূর্ণরূপে সরকারি বিদ্যালয় রূপান্তরিত হয়।
   ১৯৭৯ সালের শুরু হয় “মাঝেরচর সত্যপ্রিয় রায় স্মৃতি বিদ্যালয়”, ঘোষপাড়া সতীমাতা এলাকায় “ঘোষপাড়া সরস্বতী ট্রাস্ট এস্টেট  বিদ্যাপীঠ” স্থাপিত হয়।১৯৭৮ সালে এ-ব্লকে তৈরি হয় কল্যাণী শিক্ষায়তন বিদ্যালয়।
বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিদ্যালয় গুলির মধ্যে সর্বপ্রথম হলো ১৯৭১ সালে শুরু হওয়া “কল্যাণী সেন্ট্রাল মডেল” ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়৷ ১৯৭৭ সালে প্রথম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে ওঠে “কিন্ডার গার্ডেন” বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়। ১৯৮৮ সালে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সমাজ শহরের এ-ব্লকে স্থাপন করে “জুলিয়ান ডে স্কুল” ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়। ২০০৩ সালে তৈরি হয় “জহর নবোদয় স্কুল নামে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়” ২০০৯ সালে তৈরি হয় “ওরিয়েন্টাল পাবলিক স্কুল” ২০১৭ সালে তৈরি হয় “নারায়না স্কুল”। দু’টি স্কুলই ইংরেজি মাধ্যমে । পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষাদপ্তর অনুমোদিত প্রথম ইংরেজি মাধ্যম স্কুল “স্প্রিংডেলের” সূচনা ১৯৮৫ সালে, যেখান থেকে প্রতি বছর কৃতি ছাত্রছাত্রীরা উত্তীর্ন হচ্ছে এবং কল্যাণীর মুখ উজ্জ্বল করছে।
১৯৯৯ সালে তৈরি হয় “কল্যাণী মহাবিদ্যালয়” নামে কলেজ। ২০০০ সালে বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হয় “জিআইএস ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ”। ২০১০ সালে স্থাপিত হয় “আইডিয়াল ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং” ২০০৯ সালে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য তৈরি হয় “কলেজ অফ মেডিসিন এন্ড জেএনএম হাসপাতাল” ২০১৯ সালে তৈরি হয় “অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্সেস, এইমস”। আইন বিষয় পঠন-পাঠনের জন্য ২০০৪ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি হয় একটি কলেজ। কারিগরি শিক্ষার জন্য ১৯৫৮ সালে ঘোষপাড়া রেল স্টেশনের কাছে তৈরি হয় “কল্যাণী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, অইটিআই”। সমবায় প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি হয় ১৯৫৬ সালে “নেতাজি সুভাষ কো-অপারেটিভ ট্রেনিং কলেজ”। সীমান্ত রেলস্টেশনের কাছে প্রযুক্তি বিদ্যার জন্য ১৯৮১ সালে তৈরি হয় ভারত সরকারের “রিজিওনাল টেলিকম ট্রেনিং সেন্টার”। কল্যাণী মেইন স্টেশনের কাছে ১৯৬৯ সালে গড়ে ওঠে “সবুজ গো খাদ্যের বীজ উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র”। ১৯৭০ সালে এ-ব্লকে স্থাপিত হয় “ন্যাশানাল ডেয়ারী রিসার্চ ইনস্টিটিউট”। এছাড়াও কল্যানী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *