ইতিহাসবিদদের চোখে যুদ্ধে পরাজয়ের পরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা…

ইতিহাসবিদদের চোখে যুদ্ধে পরাজয়ের পরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা…

১৭৫৭ সাল…মুর্শিদাবাদ থেকে ৫০ মাইল দূরে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হলেন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

ইতিহাসবিদ সৈয়দ গুলাম হোসেইন খান লিখেছেন,“ সিরাজউদ্দৌলা সাধারণ মানুষের বেশে রাজধানী থেকে বেরিয়ে গেছেন। রাত তিনটার সময় স্ত্রী লুতফুন্নেসা আর কয়েকজন ঘনিষ্ঠকে ঢাকা দেয়া গাড়িতে বসানো হলো।”
তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে প্রথমে ভগবানগোলা গিয়েছিলেন।
একটানা তিনদিন কিছু খাওয়া হয়নি, তাই একটু বিরতি নিয়েছিলেন।
খিচুড়ি রান্না করা হয়েছিলো।
সেই এলাকার শাহ দানা নামের এক ফকির গোপনে মীর জাফরের কাছে সিরাজউদ্দৌলার খবর পৌঁছে দেয়।

এই খবরে মীর জাফর, মীরন যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো। মীর জাফরে জামাই মার কাসিম সৈন্যদের নিয়ে নদী পার হয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেললেন।
সিরাজকে নিয়ে আসা হলো মুর্শিদাবাদে।

তারপরের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ইতিহাসবিদ সুদীপ চক্রবর্তী….তাঁর প্রকাশিত বই ‘প্ল্যাসি: দ্য ব্যাটল দ্যাট চেঞ্জড দ্য কোর্স অব ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি’তে।

“সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে কি করা হবে সে ব্যাপারে মীর জাফর কোন মতামত না দেয়ায়, “মীরান সেটাকেই বাবার সম্মতি বলে ধরে নিয়েছিলো, সে তার বাবাকে বললো,আপনি বিশ্রাম নিন।আমি এদিকটা সামলে নিবো। মীর জাফর ভাবলেন কোন হিংসাত্মক কিছু নিশ্চয়ই হবে না।তিনি অনেক রাতে দরবার শেষ করে শয়নকক্ষে চলে যান।”

এবার আসি ইতিহাসবিদ সৈয়দ গুলাম হোসেইন খানের লেখায় …
তলোয়ার আর ছুরি দিয়ে হত্যা করা হলো সিরাজকে।
“মীরন তার এক সাথী মোহাম্মদী বেগকে দায়িত্ব দিলো সিরাজকে হত্যা করার।মোহাম্মদী বেগের আরেকটা নাম ছি লাল মোহাম্মদ।
মীরান যখন সাথীদের নিয়ে সিরাজউদ্দার কাছে গেলো, তখনই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন এরপর কি হতে চলেছে।
তিনি আবেদন করলেন মৃত্যুর আগে যেন তাকে অজু করে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হয়।
নিজেদের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করার তাগিদে হত্যাকারীরা
সিরাজের মাথায় একঘড়া পানি ঢেলে দেয়।

তিনি যখন বুঝলেন যে তাঁকে ঠিকমতো ওযু করতে দেয়া হবে না, তখন তিনি খাওয়ার জন্য একটু পানি দিতে বললেন।”

নিজের লেখা বইয়ে রবার্ট ওরাম লিখেছেন…
“ঠিক এই সময় মোহাম্মদী বেগ ছুরি দিয়ে তাঁর উপর প্রথম আঘাতটা হানলোইতিহাসবিদদের চোখে যুদ্ধে পরাজয়ের পরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা….

১৭৫৭ সাল…মুর্শিদাবাদ থেকে ৫০ মাইল দূরে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হলেন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

ইতিহাসবিদ সৈয়দ গুলাম হোসেইন খান লিখেছেন,“ সিরাজউদ্দৌলা সাধারণ মানুষের বেশে রাজধানী থেকে বেরিয়ে গেছেন। রাত তিনটার সময় স্ত্রী লুতফুন্নেসা আর কয়েকজন ঘনিষ্ঠকে ঢাকা দেয়া গাড়িতে বসানো হলো।”
তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে প্রথমে ভগবানগোলা গিয়েছিলেন।
একটানা তিনদিন কিছু খাওয়া হয়নি, তাই একটু বিরতি নিয়েছিলেন।
খিচুড়ি রান্না করা হয়েছিলো।
সেই এলাকার শাহ দানা নামের এক ফকির গোপনে মীর জাফরের কাছে সিরাজউদ্দৌলার খবর পৌঁছে দেয়।

এই খবরে মীর জাফর,মীরন যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো। মীর জাফরে জামাই মার কাসিম সৈন্যদের নিয়ে নদী পার হয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেললেন।
সিরাজকে নিয়ে আসা হলো মুর্শিদাবাদে।

তারপরের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ইতিহাসবিদ সুদীপ চক্রবর্তী….তাঁর প্রকাশিত বই ‘প্ল্যাসি: দ্য ব্যাটল দ্যাট চেঞ্জড দ্য কোর্স অব ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি’তে।
“সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে কি করা হবে সে ব্যাপারে মীর জাফর কোন মতামত না দেয়ায়, “মীরান সেটাকেই বাবার সম্মতি বলে ধরে নিয়েছিলো, সে তার বাবাকে বললো,আপনি বিশ্রাম নিন।আমি এদিকটা সামলে নিবো। মীর জাফর ভাবলেন কোন হিংসাত্মক কিছু নিশ্চয়ই হবে না।তিনি অনেক রাতে দরবার শেষ করে শয়নকক্ষে চলে যান।”

এবার আসি ইতিহাসবিদ সৈয়দ গুলাম হোসেইন খানের লেখায় …
তলোয়ার আর ছুরি দিয়ে হত্যা করা হলো সিরাজকে।
“মীরন তার এক সাথী মোহাম্মদী বেগকে দায়িত্ব দিলো সিরাজকে হত্যা করার।মোহাম্মদী বেগের আরেকটা নাম ছি লাল মোহাম্মদ।
মীরান যখন সাথীদের নিয়ে সিরাজউদ্দার কাছে গেলো, তখনই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন এরপর কি হতে চলেছে।
তিনি আবেদন করলেন মৃত্যুর আগে যেন তাকে অজু করে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হয়।
নিজেদের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করার তাগিদে হত্যাকারীরা
সিরাজের মাথায় একঘড়া পানি ঢেলে দেয়।
তিনি যখন বুঝলেন যে তাঁকে ঠিকমতো ওযু করতে দেয়া হবে না, তখন তিনি খাওয়ার জন্য একটু পানি দিতে বললেন।”

নিজের লেখা বইয়ে রবার্ট ওরাম লিখেছেন…
“ঠিক এই সময় মোহাম্মদী বেগ ছুরি দিয়ে তাঁর উপর প্রথম আঘাতটা হানলো। ছুরির আঘাত হানা হতেই বাকিরা তলোয়ার দিয়ে হামলা চালালো সিরাজের উপর।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের কাজ শেষ হলো। মাথাটা ঝুঁকে পড়লো সিরাজের,তিনি গড়িয়ে পড়লেন।”
তখন সিরাজউদ্দৌলার বয়স ছিলে মাত্র পঁচিশ বছর।

পরদিন সিরাজের ক্ষত-বিক্ষত দেহ হাতির পিঠে চাপিয়ে মুর্শিদাবাদের অলি-গলি বাজারে ঘোরানো হয়।

সৈয়দ গোলাম হুসেইন খান এই বর্বতার কথা জানাতে লিখেছেন, “সেই বিভৎস শবযাত্রার মধ্যেই মাহুত জেনে বুঝেই হুসেইন কুলি খাঁয়ের বাসভবনের সামনে মৃতদেহ বহনকারী হাতিটিকে দাঁড় করালো। দুবছর আগে হুসেইন কুলি খাঁকে সিরাজ হত্যা করেছিলেন।”
মীরনের নিষ্ঠুরতা এখানেই শেষ হয়নি। কিছু দিনের মধ্যেই সে আলিবর্দি খানের বংশের মহিলাদের হত্যা করেছিলো।

গুলাম হুসেইন খান লিখেছেন; “মীরন আলিবর্দি খানের পুরা হারেম নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছিলো, তারপর তার নজর পড়ে সিরাজের সবচেয়ে কাছের পাঁচ আত্মীয়ের পরিবারের দিকে। সিরাজের ছোট ভাই মির্জা মেহেদিকে দুটো কাঠের তক্তার মাঝে রেখে পিষে মেরেছিলো।
ওই হত্যাকাণ্ডের যুক্তি হিসাবে সে বলেছিলো, সাপ মারার পরে তার বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখা নির্বুদ্ধিতা।
সিরাজের পরিবারের যতজন সদস্যকে সে হত্যা করেছিলো
তার তালিকা সে নিজের কাছে রাখতো।”
করম আলি ‘দ্য মুজাফ্ফরনামা অব করম আলি’ গ্রন্থে আলীবর্দি খানের বংশের সব নারীদের হত্যা করার বর্ণনা দিয়েছেন…
“ প্রায় সত্তুরজন নিরাপরাধ বেগমকে একটি নৌকায় চাপিয়ে মাঝ-গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয়,আর সেখানেই নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়া হয়। সিরাজউদ্দৌলার বংশের বাকি নারীদের বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়।নৌকাডুবি আর বিষ খাইয়ে যাদের হত্যা করা হলো, সবাইকে একসঙ্গে নদীর ধারে খুশবাগ নামের একটি বাগানে দাফন করা হয়েছিলো।
শুধু একজন নারীকেই মেরে ফেলা হয়নি, তিনি ছিলেন সিরাজউদ্দৌলার অসাধারণ সুন্দরী স্ত্রী লুতফুন্নেসা।
মীর জাফর আর তার ছেলে মীরন দুজনেই তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
লুতফুন্নেসা বাবা আর ছেলে দুজনের প্রস্তাবই এই বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যে, প্রথমে হাতির পিঠে চড়েছি, এখন গাধার পিঠে চড়া সম্ভব নয়।”

Semira Mahmud

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *