
ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়
চিকিৎসক হিসাবে বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন ধন্বন্তুরি। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল রোগীকে দেখে তৎক্ষণাৎ রোগ নির্ণয় বা “ইন্টুইশন” | ডাঃ রায়ের এই “ইন্টুইশন” পরবর্তীকালে ডাক্তারি মহলে প্রবাদে পরিণত হয়। একসময় কলকাতার রাস্তায় দীর্ঘদিন ট্যাক্সি চালিয়ে পেশাগত জীবনের শুরু করে যে যুবক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯৪২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন এবং ১৯৪৮ সালে মুখ্যমন্ত্রীর রূপে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের থাকার জন্য কলকাতা থেকে ৫০ কিমি দূরে গঙ্গার তীরে ৪৫ টি গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নির্মাণ করা হয় রুজভেল্ট নগরী। বিশ্বযুদ্ধ শেষে জায়গাটি ফাঁকা পড়ে থাকার পর তা ধীরে ধীরে সবুজে ঢেকে যায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৫০ সালে বিধান রায় এই জায়গাটিতে নগর নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। নিজ উদ্যোগে হাসপাতাল, বাজার, বাড়ির পরিকল্পনা, জলের ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।

১৯৫১ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজ্যপাল “কৈলাসনাথ কাটজু” শহরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বিধান রায় নিচে এই শহরের নামকরণ করেন ” কল্যাণী “। যদিও একটি মিথ প্রচলিত এই “কল্যাণী” আসলে বিধান রায়ের প্রেমিকা তথা ডাঃ নীলরতন সরকারের কন্যা, কিন্তু বিধানরায় নিজে তার প্রেমের ব্যাপারটি অস্বীকার করেন।

১৯৫৪ সালে ডাঃ রায়ের উদ্যোগে জাতীয় কংগ্রেসের ৫১ তম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার স্মৃতিতে আজও এই শহরের একটি রাস্তার নাম ” কংগ্রেস রোড ” । ওই বছরই বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে “চাঁদমারি হল্ট” স্টেশনটির নাম পাল্টে করা হয় কল্যাণী স্টেশন। ১৯৫৭ সালে ডাঃ রায় উদ্যোগ নিয়ে গড়ে তোলেন কল্যাণী থানা।




