
[ক] ভৌগলিক অবস্থান
ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে এই নগরী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অবস্থান করছে। এই শহরের পশ্চিমপ্রান্তে বয়ে চলেছে গঙ্গানদী। নদী বিধৌত পলিমাটিতে স্নেহধন্য এই নগরে। গঙ্গার পশ্চিম পারে হুগলী জেলা, সেখান থেকে কিছুটা উত্তরে এগোলেই বর্ধমান জেলা। গঙ্গার পূর্বপারে কল্যাণীর দক্ষিণে উত্তর ২৪ পরগণা এবং মাত্র ৬৪ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের যশোর জেলা লাগোয়া ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বেনাপোল।


[খ] রাস্তা
প্রথম আমলে শ্যামবাজার থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত “ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড” হয়ে গঙ্গার ধার দিয়ে তৈরী পুরোনো ঘোষপাড়া রোডই ছিল কল্যাণী আসবার একমাত্র রাস্তা। এছাড়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক [বর্তমানে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক] দিয়ে জাগুলি দিয়েও কল্যাণী আসা যেতো। এছাড়া রাণাঘাট থেকে পালপাড়া হয়ে মদনপুর হয়ে গ্রামের ভিতরের রাস্তা দিয়েও ঘোষপাড়া গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে ব্যারাকপুর এক্সপ্রেস হয়ে গঙ্গার পূর্বপার দিয়ে এবং দিল্লী রোড হয়ে গঙ্গার পশ্চিম পার দিয়ে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ দ্রুত হয়েছে।
১৯৭৯ সালের ৬ই অক্টোবর হুগলি ও নদীয়া জেলার মাঝে হুগলি নদীর উপর নির্মিত হয় ১.০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈশ্বরগুপ্ত সেতু। এই সেতু পশ্চিম প্রান্তে বাঁশবেড়িয়া শহর এবং পূর্ব প্রান্তে কল্যাণী শহরকে যুক্ত করেছে। এই সেতু নদীয়া জেলাকে ও উত্তর চব্বিশ পরগনার সঙ্গে বর্ধমান, হুগলি জেলা ও বীরভূম জেলা যুক্ত করেছে। এই সেতুটি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে ৩৪ নং জাতীয় সড়ক-এর সঙ্গে ২ নং জাতীয় সড়ক কে যুক্ত করেছে এবং কলকাতার সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে।


[গ] প্ৰস্তাব
বিমানবন্দর ও মেট্রো রেল এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইণ্ডিয়া (AAI) –এর তথ্য অনুযায়ী দমদম বিমান বন্দরের উপর চাপ কমাতে কল্যাণীতে অপর একটি বিমান বন্দর করতে উদ্যোগী তাঁরা। আনুমানিক ১,৩০০ – ১,৫০০ একর জমি তাঁরা চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে এবং তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরকার এ ব্যাপারে তাঁদের আশ্বস্তও করেন। যদি কল্যাণীতে কলকাতার বিকল্প হিসেবে নতুন একটি বিমানবন্দর তৈরী হয় তবে ব্যারাকপুর থেকে কল্যাণী পর্যন্ত মেট্রো রেলের প্রোজেক্টের বিষয়েও সরকার আশাবাদী।





https://join.skype.com/pBAMwUOIRiKr